ভয়েজ ডেস্ক:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) শরীমনে নির্মম ক্ষত নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়েশিশু। বাড়ির পাশে খেলতে যাওয়া ওইটুকু বয়সের শিশুটির ওপর দিয়ে বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে দুই নরপশু।
শিশুটি গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে দিনাজপুরে বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় এবং পরের দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়ির পাশের হলুদ খেত থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। স্থানীয় দুই নরপশু দীর্ঘ সময় আটক রেখে শিশুটিকে ধর্ষণের চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি দীর্ঘ ২৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। তবে তার মন ও শরীর থেকে পাশবিক নির্যাতনের ক্ষত কোনো দিন মুছে যাবার নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস আক্তার। শনিবার পরিবর্তন ডটকম প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. বিলকিছ বলেন, ‘শিশুটি এখন খাবার গ্রহণ করছে। ধীরে ধীরে মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থ হচ্ছে। মানুষভীতিও কিছুটা কেটেছে। এখন আমাদের সঙ্গে, হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছে, যা কয়দিন আগেও করতো না। মানুষ দেখলেই ভয় পেতো। কান্নাকাটি ও চিৎকার চেঁচামেচি করতো।’
তবে শিশুটির প্রজনন অঙ্গে যে ক্ষত হয়েছে তার ইনফেকশন কন্ট্রোলে এসেছে বলে জানান এ চিকিৎসক।
‘কিন্তু প্রজনন অঙ্গের ক্ষত কতোখানি রিকভার হবে তার কিছু এখনো বোঝা যাচ্ছে না’ উল্লেখ করে ডা. বিলকিস বলেন, ‘আসলে তার পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা বুঝতে আরো অন্তত ছয় মাস লাগবে। তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য হাসপাতাল থেকে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। ডাক্তাররা নিয়মিত তার পরিচর্যা করছেন।’
এদিকে, শিশুটির চিকিৎসা তদারক ও তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গঠিত ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। এ বিষয়ে সোমবার বোর্ডের বৈঠক আছে। তাকে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

